গ্যাসের হাত থেকে বাচাঁর উপায়



অনলাইন ডেস্ক-মাওহা নিউজ: গ্যাসের সমস্যা ভোগে না এমন লোককে খুঁজে পাওয়া দায়। ফাস্ট ফুড, ব্যস্ত জীবনযাত্রার যুগে গ্যাস, অম্বল প্রায় ঘরোয়া রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোনও ঘরে গেলেই অন্তত গ্যাসের এক পাতা ওষুধ অবশ্যই মিলবে। তবে কী গাদা গাদা গ্যাসের ওষুধ খেয়েও সমস্যা দূর হয় না। কিন্তু ঘরোয় কিছু উপায় আছে যেগুলি প্রয়োগ করলে গ্যাস-অম্বলকে দূরে রাখা যায়। প্রাকৃতিক ও সহজে পাওয়া যায় এমন সব জিনিস দিয়ে গ্যাস, বুক জ্বালা-অম্বল দূরে রাখুন-
কলা-সারাদিনে অন্তত দুটো কলা খান। পেট পরিষ্কার রাখতে কলার জুড়ি মেলা ভার।
ঠান্ডা দুধ-পাকস্থলির গ্যাসট্রিক অ্যাসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয় ঠান্ডা দুধ। এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করলে অ্যাসিডি দূরে থাকে।
দারুচিনি-হজমের জন্য খুবই ভাল। এক গ্লাস জলে আধ চামচ দারুচিনির গুঁড়ো দিয়ে ফুটিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার খেলে গ্যাস দূরে থাকবে।
মৌরির জল-মৌরি ভিজিয়ে সেই জল খেলে গ্যাস থাকে।
জিরে-জিরে পেটের গ্যাস, বমি, পায়খানা, রক্তবিকার প্রভৃতিতে অত্যন্ত ফলপ্রদ। জ্বর হলে ৫০ গ্রাম জিরা আখের গুড়ের মধ্যে ভালো করে মিশিয়ে ১০ গ্রাম করে পাঁচটি বড়ি তৈরি করতে হবে। দিনে তিনবার এর একটি করে বড়ি খেলে ঘাম দিয়ে জ্বর সেরে যাবে।
লবঙ্গ- ২/৩টি লবঙ্গ মুখে দিয়ে চুষলে একদিকে বুক জ্বালা, বমিবমিভাব, গ্যাস দূর হয়। সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।  
এলাচ-লবঙ্গের মত এলাচ গুঁড়ো খেলে অম্বল দূরে থাকে।
পুদিনা পাতার জল-এক কাপ জলে ৫টা পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে খান। পেট ফাঁপা, বমিভাব দূরে রাখতে এর বিকল্প নেই।
আমলা-আমলা টুকরো করে রোদে দিয়ে খান কাজে দেবে। পেটে গ্যাস ও বদহজমজনিত সমস্যা সমাধানে আদা খুব উপকারী। খাবারে আদা যোগ করে বা কিছু পরিমাণ আদা চিবিয়ে রসটুকু গ্রহণ করলে পেটে গ্যাস প্রতিরোধ করা যায়।
আদা-আদা থেতো করে খান দখবেন অম্বল পালিয়েছে।  
(এছাড়াও খাবারে সরষে যোগ করুন : সরিষে গ্যাস সারাতে করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন খাবারের সাথে সরষে যোগ করা হয় যাতে সেইসব খাবার পেটে গ্যাস সৃষ্টি করতে না পারে।)
......................................................................................................
(মাওহা নিউজ  নিয়মিত পড়ুন-বিজ্ঞাপন দিন-লেখা পাঠান।
এই ই-মেইল আইডিতে maohanews@gmail.com

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন


জাতীয় সংসদ ভবন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান ভবন। এটি ঢাকার শেরে-বাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত। প্রখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান এটির মূল স্থপতি।
ইতিহাস
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত আটটি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সংসদের অধিবেশনগুলি অনুষ্ঠিত হয় পুরনো সংসদ ভবনে, যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তৎকালীন পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের (বর্তমান পাকিস্তান) জন্য আইনসভার জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। ১৯৮২ সালের ২৮শে জানুয়ারি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর একই বছরের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম (এবং শেষ) অধিবেশনে প্রথম সংসদ ভবন ব্যবহৃত হয়। তখন থেকেই আইন প্রণয়ন এবং সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনার মূল কেন্দ্র হিসাবে এই ভবন ব্যবহার হয়ে আসছে।

সংসদীয় ইতিহাস
বাংলাদেশে গঠিত সকল সংসদের তালিকা:
১) প্রথম সংসদ: ২ বছর ৬ মাস (৭ই এপ্রিল, ১৯৭৩ - ৬ই নভেম্বর, ১৯৭৫) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে
২) দ্বিতীয় সংসদ: ২ বছর ১১ মাস (২রা এপ্রিল, ১৯৭৯ - ২৪শে মার্চ, ১৯৮২) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে
৩) তৃতীয় সংসদ: ১ বছর ৫ মাস (১০ই জুলাই, ১৯৮৬ - ৬ই ডিসেম্বর, ১৯৮৭) জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে
৪) চতুর্থ সংসদ: ২ বছর ৭ মাস (১৫ই এপ্রিল, ১৯৮৮ - ৬ই ডিসেম্বর, ১৯৯০) জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে
৫) পঞ্চম সংসদ: ৪ বছর ৮ মাস (৫ই এপ্রিল, ১৯৯১ - ২৪শে নভেম্বর, ১৯৯৫) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে
৬) ষষ্ঠ সংসদ: ১২ দিন (১৯শে মার্চ, ১৯৯৬ - ৩০শে মার্চ, ১৯৯৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে
৭) সপ্তম সংসদ: ৫ বছর (১৪ই জুলাই, ১৯৯৬ - ১৩ই জুলাই, ২০০১) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে
৮) অষ্টম সংসদ: (২৮শে অক্টোবর, ২০০১ - ২৭শে অক্টোবর, ২০০৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের নেতৃত্বে

৯) নবম সংসদ: (১৭ই জানুয়ারি, ২০০৯ - ) আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট
এর মধ্যে প্রথম সংসদ কখনোই জাতীয় সংসদ ভবন ব্যবহার করেনি। প্রতিটি সংসদের নেতা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থাপত্যশৈলী ও নকশা
লুই কান কমপ্লেক্সের অবশিষ্ট অংশের ডিজাইন করেন। জাতীয় সংসদ ভবন জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সের একটি অংশ। কমপ্লেক্সের মধ্যে আরো আছে সুদৃশ্য বাগান, কৃত্রিম হ্রদ এবং সংসদ সদস্যদের আবাসস্থল।
অবস্থান
ঢাকার শের-এ-বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সকে ঘিরে রয়েছে চারটি প্রধান সড়ক:
উত্তর দিকে লেক রোড;
পূর্ব দিকে রোকেয়া সরণী;
দক্ষিণ দিকে মানিক মিয়া এভিনিউ এবং
পশ্চিম দিকে মিরপুর রোড।
ফলে সংসদ অধিবেশন চলাকালে যানবাহন চলাচল ও সহজে চলাচল নিয়ন্ত্রন করা সম্ভবপর হয়।

মূল ভবনটি (সংসদ ভবন) মূলতঃ তিন ভাগে বিভক্ত:
মেইন প্লাজা : ৮২৩,০০০ বর্গফুট (৭৬,০০০ বর্গমিটার)
সাউথ প্লাজা : ২২৩,০০০ বর্গফুট (২১,০০০ বর্গমিটার)
প্রেসিডেন্সিয়াল প্লাজা : ৬৫,০০০ বর্গফুট (৬,০০০ বর্গমিটার)
মূল ভবনটি কমপ্লেক্সের কেন্দ্রে অবস্থিত। এমপি হোস্টেল এবং জরুরী কাজে ব্যবহৃত ভবনসমূহ কমপ্লেক্সের বহির্ভাগে অবস্থিত। মূল ভবন ঘিরে অবস্থিত কৃত্রিম হ্রদ, দুটি বাগান এর মাঝের শূণ্যস্থান পূরণ করেছে।

স্থাপত্য দর্শন
এই স্থাপনার স্থাপত্য দর্শনের মূলে ছিল স্থানের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং স্থাপত্যশৈলীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা। প্রকৃতির বিভিন্ন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে স্থাপত্যশৈলী দ্বারা।

মূল ভবনের নকশা
মূল ভবনটি নয়টি পৃথক ব্লক দিয়ে তৈরী: মাঝের অষ্টভূজ ব্লকটির উচ্চতা ১৫৫ ফুট এবং বাকি আটটি ব্লকের উচ্চতা ১১০ ফুট। প্রতিটি ব্লকের জায়গাকে বিভিন্ন কাজের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে, করিডোর, লিফট, সিড়ি ও বৃত্তাকার পথ দিয়ে আনুভূমিক ও উলম্বিকভাবে ব্লকগুলোর মাঝে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। পুরো ভবনটির নকশা এমনভাবে প্রনয়ন করা হয়েছে যাতে সব ব্লকগুলোর সমন্বয়ে একটি ব্লকের অভিন্ন স্থান হিসাবে ব্যবহার করা যায়।
দ্বিতীয় তলার একটি লাগোয়া ব্লকে প্রধান কমিটির রুমগুলো রয়েছে। সকল ধরনের সংসদীয় কার্যক্রম, মন্ত্রী, চেয়ারপারসন এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির অফিস রয়েছে এই ভবনে। একই ভবনে সংসদীয় সচিবের জন্যও কিছু অফিস বরাদ্দ রয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের সাম্প্রতিক দৃশ্যে
মেইন প্লাজা
মেইন প্লাজার মূল অংশটি হচ্ছে সংসদ অধিবেশন কক্ষ। এখানে একই সময়ে ৩৫৪ জন সদস্যের সংস্থান রাখা হয়েছে। ভিআইপিদের জন্য দুইটি পোডিয়াম এবং দুইটি গ্যালারী রয়েছে। পরাবৃত্তাকার ছাদসম্পন্ন অধিবেশন কক্ষটির উচ্চতা ১১৭ ফুট। ছাদটি স্বচ্ছভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দিনের আলো এতে প্রবেশ করতে পারে। সূর্যের আলো চারদিকের ঘেরা দেয়াল ও অষ্টভূজকৃতির ড্রামে প্রতিফলিত হয়ে অধিবেশন কক্ষ প্রবেশ করে। (আলোর নান্দনিকতা ও সর্বোচ্চ ব্যবহার লুই কানের স্থাপত্য ক্ষমতার নিদর্শনস্বরূপ।)
কৃত্রিম আলোকে এমনভাবে বিভক্ত করা হয়েছে যে সূর্যের আলোর প্রবেশের ক্ষেত্রে তা কোনো বাধার সৃষ্টি করতে পারে না। শ্যান্ডেলির বা ঝাড়বাতিগুলো পরাবৃত্তাকার ছাদ হতে নিচে নেমে এসেছে। এর গঠনশৈলীতে ধাতুর ব্যবহার প্রতিটি আলোক উৎসর ভিত্তি হিসাবে কাজ করে।
উপরের অংশের অভ্যাগত এবং গণমাধ্যমের জন্য গ্যালারীর ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও এর বিভিন্ন অংশে রয়েছে:
প্রথম তলায়, একটি গ্রন্থাগার;
তৃতীয় তলায়, সংসদ সদস্যদের জন্য লাউঞ্জ এবং
উপর তলায়, মিলনায়তন;
সাউথ প্লাজা
দক্ষিণ দিকে মানিক মিয়া এভিনিউর অভিমুখে সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজা অবস্থিত। এর ক্রমোচ্চ (Gradually rises) ২০' উচ্চতার ভবন কাঠামো সৌনর্য বর্ধনের পাশপাশি সংসদ ভবনের মূল প্রবেশ পথ (অধিবেশন চলাকালে) হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এখানে আরো রয়েছে:
নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ;
ড্রাইভওয়ে;
প্রধান যন্ত্রপ্রকৌশল কক্ষ;
গাড়ি পার্কিং-এর জন্য বিস্তৃত পরিসর;
টেলিফোন এক্সচেঞ্জ;
রক্ষনাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলীদের অফিসকক্ষ;
উপকরণ সরঞ্জাম রাখার স্থান; এবং
মূল ভবনে যাওয়ার জন্য উম্মুক্ত চত্বর;
প্রেসিডেন্সিয়াল প্লাজা
উত্তর দিকে অবস্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল প্লাজা সম্মুখে লেক রোড অবস্থিত। এই প্লাজা সংসদ সদস্য এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মার্বেলের তৈরি মেঝে, গ্যালারী এবং খোলা পথ এই প্লাজার নির্মাণশৈলীর বৈশিষ্ট্য।
তথ্য
নির্মাণকার্য সূচনা: ১৯৬১
নকশা ও নির্মাণ ব্যয়: ১২৯ কোটি টাকা
উদ্বোধন: ২৮শে জানুয়ারি, ১৯৮২
স্থপতি: লুইস কান
মাহফু চৌ্ধূরী (সহকারী স্থপতি)
মোট এলাকা: ২০০ একর (৮,০০,০০০ বর্গমিটার)
অবস্থান: শেরে-বাংলা নগর, ঢাকা
মোট সংসদের সংখ্যা: ৭

ফুটবল খেলা সম্পর্কে জানুন

ফুটবল  এগারো জনের দুটি দুলের মধ্যে একটি বায়ুপূর্ণ চামড়ার বলকে পা ও মাথার সাহায্যে পরস্পরের গোলসীমানার দিকে নিক্ষেপের খেলা।
বাংলাদেশে ফুটবল বলতে অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল বা সকারকেই বোঝানো হয়ে থাকে। ফুটবল মাঠ আয়তাকার এবং দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে তার মাপ ৯০-১১০ মিটার × ৪৫-৯০ মিটার। মাঠের দুইপ্রান্ত রেখা বা গোললাইনের মাঝামাঝি স্থানে ৭.৩২ মিটার ব্যবধানে দুটি খুঁটি বা গোলপোস্ট থাকে। গোলপোস্টের উচ্চতা ২.৪৪ মিটার এবং এর ওপরে আড়াআড়িভাবে একটি ক্রসবার থাকে। প্রতিটি গোলপোস্ট থেকে ৫.৫ মিটার দূরত্বে স্থাপিত এবং ৫.৫ মিটার দীর্ঘ দুটি সরল রেখাকে আরেকটি সরলরেখা দিয়ে যুক্ত করে চিহ্নিত করা হয় গোল এরিয়া। একইভাবে গোলপোস্ট থেকে ১৬.৫ মিটার দূরত্বে চিহ্নিত এলাকাকে বলা হয় পেনাল্টি এরিয়া। একটি আদর্শ ফুটবলের পরিধি ৬৮.৫-৭১ সেন্টিমিটার এবং এর ওজন ৪০০ থেকে ৪৫০ গ্রাম। মাঠের খেলায় প্রত্যেক দলে এগারো জন করে খেলোয়াড় থাকেন। এদের মধ্যে একজন থাকেন গোলকিপার, নিজেদের পেনাল্টি সীমানার ভেতর তিনিই কেবল হাত দিয়ে বল ধরতে পারেন। এক পক্ষের গোলবারের ভিতর দিয়ে বল চলে গেলে প্রতিপক্ষ একটি গোল পায়। এভাবে ৯০ মিনিটের খেলায় যে পক্ষ বেশি গোল পায় তাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। বল মাঠের বাইরে গেলে লাথি মেরে বা হাত দিয়ে নিক্ষেপ করে আবার খেলা শুরু করতে হয়। খেলা পরিচালনার জন্য একজন রেফারি ও দুজন সহকারী রেফারি থাকেন।
ফুটবল খেলা কোন দেশে কখন প্রথম চালু হয় সে সম্বন্ধে ঐতিহাসিকরা একমত নন। কেউ বলেন চীন, কেউ গ্রিস, কেউ রোম, কেউবা ইংল্যান্ডকে ফুটবল খেলার আবিষ্কারক মনে করেন। তবে রোমানরাই ফুটবল খেলাকে ইউরোপের সঙ্গে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয় এবং এ খেলার বিস্তৃতি ও জনপ্রিয়তা দান করে।
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ফুটবল ইংল্যান্ডে প্রবেশ করার পর থেকে এর প্রচার, প্রসার ও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ১৮৪৮ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রথম ফুটবলের জন্য আইন-কানুন প্রণয়ন করে। পরবর্তীকালে এর আরও পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন ঘটে এবং ফুটবলের জন্য একটি পরিপূর্ণ নীতিমালা তৈরি হয়। তাই ইংল্যান্ডকে আধুনিক ফুটবলের জনক বলা হয়। তারাই ফুটবলকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয় এবং জনপ্রিয় করে তোলে। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে পৃথিবীতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ে। ১৯০৪ সালের ২১ মে প্যারিসে ইউরোপের ৭টি দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ফিফা) গঠিত হয়। ১৯৩০ সালে আয়োজন করা হয় বিশ্বকাপ ফুটবলের। উরুগুয়ে প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে। অলিম্পিকে ফুটবল অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯০৮ সালে, এশিয়ান গেমসে ১৯৫১ সালে, ইউরোপিয়ান কাপ চালু হয় ১৯৬০ সালে, বিশ্ব ক্লাবকাপ ১৯৬০ সালে এবং এশিয়ান ক্লাব ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ১৯৬৭ সালে।
বিশ্ব ফুটবলে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য যাদের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাজিলের পেলে, আর্জেন্টিনার দিয়াগো ম্যারাডোনা, নেদারল্যান্ডসের ইয়োহান ক্রুইফ, হাঙ্গেরির ফেরেংক পুসকাস, জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি, পর্তুগালের ইউসেবিও, ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথুজ, প্রমুখ। মহিলা ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের বেভারলি রেঞ্জার, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়া হ্যাম প্রমুখ।
ভারতীয় উপমহাদেশের ফুটবল খেলা প্রথম চালু করে ইংরেজরা। ঐতিহাসিকরা দাবি করেন যে, মৌর্য রাজত্বকালে সেলুকাসের দূত মেগাস্থিনিস পাটলিপুত্রে বা পাটনায় এসে স্বচক্ষে এই খেলা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছিলেন। এদেশে ইংরেজ বণিকদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজ খেলোয়াড় ও সৈনিক ফুটবলদল সুশৃঙ্খলভাবে ফুটবল খেলার চর্চা করে এবং তাদের প্রচেষ্টাতেই ফুটবল খেলা উপমহাদেশের ক্রীড়াজগতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮২১ সালে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত মিলিটারি বনাম মুম্বাই আইল্যান্ডের খেলাটিকে উপমহাদেশের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক খেলা হিসেবে গণ্য করা হয়। এ জন্য মুম্বাইকে উপমহাদেশের ফুটবলের জন্মভূমি বলা হয়। অনেকের মতে মুম্বাইয়ের আগে এলাহাবাদ, কলকাতা ও ঢাকায় ফুটবল প্রচার লাভ করে। বস্ত্তত, ১৮৯৩ সাল থেকে ঢাকা ও কলকাতায় বাঙালিদের মধ্যে ফুটবল খেলার উদ্দীপনা ও উৎসাহ দেখা দেয় এবং একই বছর আইএফএ শিল্ডের খেলা শুরু হয়।
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর ফুটবল নতুন উদ্যমে শুরু হয়। ফুটবলের উন্নয়নের জন্য গঠিত হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফের তত্ত্বাবধানে ১৯৭২ সালে ঢাকায় ফুটবল লীগ শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে জাতীয় ফুটবল ও ১৯৭৪ সালে জাতীয় যুব ফুটবল শুরু হয়। ১৯৮০ সালে শুরু হয় ফেডারেশন কাপ ফুটবল। ২০০৭ সালের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামো মূলত অপেশাদার ছিল, তখন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ফুটবল লিগই ছিল দেশের সেরা ঘরোয়া আসর। ২০০৭ সাল থেকে চালু হয়েছে পেশাদার ফুটবলের আসর। শুরুতে এ টুর্নামেন্টের নাম ছিল বি-লিগ, তবে ২০১০ সাল থেকে এ আসরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ লিগ। দেশের ফুটবল ক্লাবগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আবাহনী ক্রীড়া চক্র লিমিটেড, ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উদ্যোগে এক সময় প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপ নামে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন করা হতো। এছাড়া বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ নামেও একটি টুর্নামেন্ট আয়োজিত হয়েছে। স্বাধীনতা পূর্ববর্তীযুগ থেকে নিয়মিত আয়োজিত হতো আগা খান গোল্ড কাপ নামে একটি ক্লাবভিত্তিক টুর্নামেন্ট। বর্তমানে এসব টুর্নামেন্ট আর আয়োজিত হয় না। তবে বাংলাদেশ সার্ক অঞ্চলের দেশগুলিকে নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট সাফ ফুটবল এবং ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশ নেয়। বাংলাদেশের ক্লাবগুলি অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপ টুর্নামেন্টে। ১৯৯৯ এবং ২০১০ সালের দক্ষিণ এশিয়ান গেমস-এ ফুটবলে স্বর্ণপদক এবং ২০০৩ সালের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় ফুটবলে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য।
সূত্র: বাংলা পিডিয়া

Contact for ad